সন্তানদের নিয়ে কোরবানির গরু কিনতে এসেছেন চাকরিজীবী মো. হোসেন ও মো. রহিম। চট্টগ্রাম নগরের সর্ববৃহৎ পশুর বাজার বিবিরহাটে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে ছোট ও মাঝারি আকৃতির গরু নিয়ে দরকষাকষি করেন তারা। বেশ কয়েকটি গরু পছন্দ হলেও দাম বাজেটের বাইরে থাকায় এক পর্যায়ে গরু না কিনেই তারা বের হয়ে যান।
বাজার পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে মো. হোসেন বলেন, ‘এবার একা গরু কিনে কোরবানি দেওয়া কঠিন। এক প্রতিবেশীর সঙ্গে ভাগে কোরবানি করতে ৭০ হাজার টাকায় গরু কিনতে এসেছি। ছোট ও মাঝারি গরু পছন্দ হলেও দাম অনেক বেশি। অন্যবার ছোট গরু ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকায় কিনেছি। এবার একই রকম গরুর দাম চাইছে এক লাখ ২০ হাজার টাকার ওপরে। এটা অস্বাভাবিক।’ মো. রহিম বলেন, ‘পছন্দের পশু কিনতে সন্তানরা অপেক্ষায় থাকে। তাদের কারণেই কোরবানি করতে হচ্ছে। কিন্তু বাজারে এসে তারাও হতাশ। কারণ, এবার ছোট গরুর দাম গতবারের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। এত বাড়তি দামে গরু কেনা আমার মতো নিম্ন মধ্যবিত্তদের পক্ষে অসম্ভব।’
নির্দিষ্ট বাজেটে ছোট আকৃতির গরু কিনতে গিয়ে এই দুজনের মতোই বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হচ্ছে অনেককে। চট্টগ্রামের অন্তত ৬০ শতাংশ মানুষের পছন্দ ছোট-মাঝারি গরু। তবে দাম বেশি হওয়ায় অনেকে বাধ্য হচ্ছেন ছাগল কিনতে।
ঈদ সামনে রেখে জমজমাট চট্টগ্রামের প্রতিটি হাটবাজার। কয়েক দিন ধরে প্রতিদিন ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত শত শত ট্রাকে করে বাজারে আনা হচ্ছে গরু। প্রতিটি বাজারে পর্যাপ্ত গরু থাকলেও দাম বেশি। চট্টগ্রামের পশুর হাটগুলোতে কুমিল্লা, ফেনী, কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, মাগুরাসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে গরু নিয়ে আসছেন ব্যাপারী ও খামারিরা।
কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সহসভাপতি এসএম নাজের হোসাইন বলেন, ‘চাল, ডাল, তেল, সবজিসহ ভোগ্যপণ্যের দাম আকাশচুম্বী। ব্যয় মেটাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে নিম্ন মধ্যবিত্তদের। এই অঞ্চলে বড় গরুর তুলনায় ছোট ও মাঝারি গরুর ক্রেতা বেশি। তবে এবার ছোট গরুর দাম অস্বাভাবিক বেশি।’
চট্টগ্রাম নগরের পাঁচলাইশ এলাকার বাসিন্দা রবিউল ইসলাম বলেন, ‘কয়েকটি বাজারে গিয়েও কোরবানির গরু কিনতে পারিনি। প্রতিটি বাজারে পর্যাপ্ত গরু রয়েছে। কিন্তু দাম ক্রেতার নাগালের বাইরে। লাখ টাকার নিচে মিলছে না ছোট গরু। চকবাজার এলাকার বাসিন্দা ইসমাইল হোসেন তুরাজ বলেন, ‘দুই ছেলেকে নিয়ে দুদিন কয়েকটি পশুর হাটে গিয়েছি। তবে দাম বেশি হওয়ায় কিনতে পারিনি।’
ঝিনাইদহ থেকে গরু নিয়ে আসা ব্যাপারী আনিছ মিঞা বলেন, ‘আগের তুলনায় গবাদি পশুর লালন-পালন খরচ অনেক বেড়েছে। বেড়েছে গোখাদ্যের দাম। তেলের দাম বাড়ায় বেড়েছে পরিবহন খরচও। তাছাড়া গরু নিয়ে আসার পথে কয়েকটি স্থানে বাড়তি টাকা গুনতে হয়েছে। এসব কারণে গরুর দাম কিছুটা বেশি।’ ব্যাপারী রাসেল হোসেন বলেন, ‘নানা খাতে বাড়তি খরচের কারণে এবার গরুর দাম বেশি। বাজারে প্রচুর ক্রেতা থাকলেও বেশির ভাগ ক্রেতাই শুধু দাম যাচাই করছেন। বেশির ভাগ ক্রেতার পছন্দ ছোট ও মাঝারি গরু। এমন অকৃতির ১০ ট্রাক গরু এনেছি।’
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আলমগীর বলেন, ‘চট্টগ্রামে এবার ৮ লাখ ১৮ হাজার কোরবানির পশুর চাহিদা রয়েছে। চাহিদার তুলনায় ৩৫ হাজারের বেশি গবাদি পশুর ঘাটতি রয়েছে। তবে দেশের উত্তরাঞ্চলসহ আশপাশের অনেক জেলা থেকে কয়েক দিন ধরে প্রচুর গরু আসছে। এখানকার ক্রেতাদের একটি বড় অংশই ছোট ও মাঝারি গরু কেনেন।