কুষ্টিয়ায় বর্ণিল আয়োজনে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন
মো. মুনজুরুল ইসলামঃ-
মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠা দর্শনকে ধারণ করে বর্ণিল আয়োজনের মধ্য দিয়ে শনিবার (২২ নভেম্বর) উদযাপিত হলো ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৭তম বিশ্ববিদ্যালয় দিবস। জাতীয় পতাকা উত্তোলন, শান্তির প্রতীক পায়রা ও বেলুন উড়ানো, আলোচনা সভা, কেক কাটা, বিশাল আনন্দ র্যালিসহ নানা কর্মসূচিতে দিনটি পরিণত হয় এক প্রাণময় মিলনমেলায়।
দিনব্যাপী কর্মসূচির প্রধান আকর্ষণ ছিল বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মিলনায়তনে আয়োজিত আলোচনা সভা। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ। তিনি বলেন, “বিজ্ঞানকে আলাদা করে ইসলামাইজেশনের প্রয়োজন নেই। বিজ্ঞান নিজেই ইসলাম; বিজ্ঞান ইসলামের অন্তর্ভুক্ত।” শিক্ষার্থীদের ইসলামের মৌলিক শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ করার পাশাপাশি নতুন নতুন বিভাগ খোলার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি আরও বলেন, “সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় তার লক্ষ্য-উদ্দেশ্য পূরণের পথে এগিয়ে যাবে।
গবেষণার বাজেট সংকট মোকাবিলায় সোর্স হান্টিংয়ের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়ে ভিসি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল লক্ষ্য শিক্ষা ও গবেষণা হলেও সরকারি গবেষণা বাজেট অপ্রতুল—তবুও গবেষণা কার্যক্রম জোরদারে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এম. এয়াকুব আলী এবং ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম। স্বাগত বক্তব্য দেন রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর ড. মো. মনজুরুল হক। ৪৭তম বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক প্রফেসর ড. মো. আলীনূর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সংগঠন ও অঙ্গসংস্থার নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।
এর আগে সকাল সাড়ে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের হলসমূহে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে দিবসের কর্মসূচি শুরু হয়। কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে জাতীয় ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলন শেষে শান্তির প্রতীক পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
পতাকা উত্তোলন শেষে বর্ণাঢ্য আনন্দ র্যালি পুরো ক্যাম্পাস মুখরিত করে তোলে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী, শিক্ষার্থীসহ ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরাও অংশ নেন র্যালিতে। বাদ্যযন্ত্র, ব্যানার ও বর্ণাঢ্য সাজসজ্জায় র্যালিটি ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ শেষে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান স্থাপিত ভিত্তিপ্রস্তর চত্বরে গিয়ে শেষ হয়।
এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। বিভিন্ন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থী সংগঠনও একে একে শ্রদ্ধা নিবেদন করে। পুষ্পস্তবক অর্পণের পর তাঁর রুহের মাগফেরাত ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তি-কল্যাণ কামনায় দোয়া করা হয়।
বাদ জোহর কেন্দ্রীয় মসজিদে অনুষ্ঠিত হয় বিশেষ মোনাজাত। দিনব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে মিলনায়তনে ইরানি চলচ্চিত্র প্রদর্শন করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে মেইন গেট, প্রশাসন ভবন, ভিসি বাসভবন, ভিত্তিপ্রস্তর ও ডায়না চত্বর আলোকসজ্জায় সজ্জিত করা হয়। পাশাপাশি প্রধান সড়কগুলোতে আলপনা অঙ্কন ও রঙিন পতাকা শোভা পায়।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্য, দর্শন ও অগ্রযাত্রার প্রতিচ্ছবি হয়ে এবারের দিবস উদযাপন ক্যাম্পাসজুড়ে এনে দেয় উৎসবের আবহ।








