কুষ্টিয়ার দুর্গম চর এলাকায় ৪৭ বিজিবির বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা — সীমান্ত রক্ষার পাশাপাশি মানবিক সেবায় অনন্য দৃষ্টান্ত
মো. মুনজুরুল ইসলামঃ-
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার দুর্গম উদয়নগর চর এলাকায় সীমান্তের প্রান্তিক মানুষের জন্য একদিনের বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম আয়োজন করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি)। শনিবার (১৫ নভেম্বর ২০২৫) অনুষ্ঠিত এই মানবিক কর্মসূচিতে নারী, পুরুষ, শিশু ও বয়স্কসহ প্রায় ১৩৫ জন অসহায় মানুষ চিকিৎসা সেবা ও বিনামূল্যে ওষুধ পান।
সীমান্তবর্তী চরাঞ্চলের ভৌগোলিক বিচ্ছিন্নতা ও পর্যাপ্ত চিকিৎসা সুবিধার অভাব দীর্ঘদিন ধরেই স্থানীয় জনগণের অন্যতম বড় সংকট। এ পরিস্থিতিতে বিজিবির বিশেষজ্ঞ মেডিকেল টিম সকাল থেকেই স্বাস্থ্য পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী রোগীদের সেবা প্রদান করে। বিশেষ করে বয়স্ক, নারী ও শিশু রোগীদের বিভিন্ন জটিলতা বিবেচনায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
বিজিবির মানবিক এই উদ্যোগ প্রসঙ্গে কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. মাহবুব মুর্শেদ রহমান, পিএসসি বলেন, “বিজিবি শুধু সীমান্ত সুরক্ষায় নয়; সীমান্ত অঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নেও সমানভাবে দায়িত্বশীল। প্রান্তিক মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে আমাদের এই উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।”বিনামূল্যের চিকিৎসা সেবা পেয়ে স্থানীয়রা বিজিবির প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
সীমান্ত নিরাপত্তা, মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে গত এক বছরে প্রশংসনীয় সাফল্য অর্জন করেছে কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি)।
স্বর্ণ পাচারের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়ে ৫ জন স্বর্ণ–পাচারকারীসহ মোট ৫.৩২১ কেজি স্বর্ণ উদ্ধার।
৮ জন আসামিসহ ৮টি বিদেশি পিস্তল, বিভিন্ন ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার।
১২৩ জনকে আটকসহ ফেন্সিডিল, ইয়াবা, গাঁজা, হেরোইন, বিদেশি মদ এবং কোকেনসহ বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য জব্দ—যার সিজার মূল্য প্রায় ৮০ কোটি টাকা।
যৌথ টাস্কফোর্স অভিযানে নিষিদ্ধ বিড়ি-সিগারেট, কসমেটিকস, বিভিন্ন ধরনের অবৈধ মাছ ধরার জাল, জাল তৈরির মেশিনসহ বিপুল পণ্য জব্দ—যার বাজারমূল্য প্রায় ৫৫ কোটি টাকা।
গত ৬ অক্টোবর পদ্মা নদীতে নৌকা ডুবির ঘটনায় বিজিবির তৎপরতায় ১৫ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।
এছাড়া গত সেপ্টেম্বর মাসে পদ্মা নদীর আকস্মিক ভাঙনে বিজিবির সরকারি মালামাল সরিয়ে নিতে স্থানীয়দের সহযোগিতায় কৃতজ্ঞতা জানায় ব্যাটালিয়ন কর্তৃপক্ষ।
কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি) জানায়, সীমান্ত নিরাপত্তা, মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে তারা জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে ভবিষ্যতেও একই পেশাদারিত্ব বজায় রাখবে।








