গজারিয়ায় আওয়ামী দোসর কাইয়ুম, হালিম ও মহিউদ্দিনের অত্যাচারে এখনো অতীষ্ঠ স্থানীয়রা

বিশেষ প্রতিবেদকঃ
মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার গুয়াগাছিয়া ইউনিয়নের জামালপুর গ্রামের আওয়ামী দোসর কাইয়ুম, হালিম ও মহিউদ্দিনের অত্যাচারে সাধারণ জনগণ অতীষ্ঠ হয়ে দিনাতিপাত করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়রা সাংবাদিকদেরকে জানান, অভিযুক্তরা নিজের বাড়িতে পুলিশ ক্যাম্প বসিয়ে প্রশাসনের সাথে সখ্যতার দোহাই দিয়ে রাতের আধারে মানুষের ঘরবাড়ি লুট করছে। দীর্ঘ ১৬ বছর কাইয়ুম, হালিম ও মহিউদ্দিন আওয়ামী লীগের রাজনীতি করেছেন এবং নারায়ণগঞ্জ ও মুন্সিগঞ্জের প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতাদের দালালি করে ও নৌ ডাকাতি করে কোটি টাকার সম্পদের পাহাড় গড়েছে। বর্তমানে নিজেদের অপকর্ম ঢাকতে গজারিয়ার জামালপুর গ্রামে নিজেদের বাসায় পুলিশ ক্যাম্প বসিয়েছে। বিগত সময়ে নারায়ণগঞ্জ ৪-আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমান, মুন্সিগঞ্জ ৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস, সাবেক সংসদ সদস্য ফয়সাল বিপ্লবের সাথে ছিল তাদের গভীর সখ্যতা। শুধু তাই নয়, এমপি ছাড়াও উপজেলা চেয়ারম্যান সহ আওয়ামী লীগের সকল নেতাদের সাথে তাদের সখ্যতা ছিলো। জানা গেছে, রবিবার রাতে জামালপুর গ্রামের নয়ন ও পিয়াসের বাড়িতে পুলিশ ও সেনাবাহিনী সহ যৌথবাহিনী অভিযান চালিয়ে কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি। তারা চলে যাবার কিছুক্ষণ পর আওয়ামী দোসর কাইয়ুম, হালিম ও মহিউদ্দিনের যোগসাজসে কয়েকটি ট্রলারযোগে নারায়ণগঞ্জ থেকে প্রায় শতাধিক অস্রধারী সন্ত্রাসী নিয়ে নয়ন ও পিয়াসের বাড়িতে হামলা চালিয়ে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে যায়। এদিকে অপরাধীদের কাছ থেকে মোটা অংকের ঘুষ নিয়ে এ ঘটনায় কোন ব্যবস্থা না নিয়ে সোমবার বিকেলে গজারিয়া থানার ওসি আনোয়ার আলম আজাদ তিনি চাঁদপুরের উত্তর মতলবে নৌ-ঘাটে গিয়ে বিনা কারণে ফাঁকা গুলি ছুড়েন। পরক্ষণে স্থানীয় এলাকাবাসী জড়ো হয়ে ওসি ও সঙ্গিয় ফোর্সকে ধাওয়া দিলে তারা অবস্থা বেগতিক দেখে উক্ত স্থান থেকে কেটে পড়ে। এসময় ওসির সাথে জামালপুর ও বালিয়াকান্দী এলাকার সন্ত্রাসী মানিক দেওয়ান, রাসেল দেওয়ান, সাব্বির, জিতু লাড়ি, জিহাদ লাড়ি, জিতু ডাকাত, রাজিব ডাকাত ও গোলজার ডাকাত তার সাথে ছিলো বলে জানা গেছে। ওসির এমন রহস্যজনক ও কান্ডজ্ঞানহীন কর্ম দেখে স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। এই ওসি প্রত্যাহার করে ভালো ও দায়িত্বশীল পুলিশ অফিসার গজারিয়া থানায় দেয়ার জন্য মুন্সীগঞ্জের পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপ দাবী করেছেন সচেতন নাগরিকরা। অন্যথায় এলাকাবাসী কঠোর কর্মসূচি হাতে নেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বলে জানা গেছে।