বহাল তবিয়তে বিএনপি নেতার অবৈধ চুন কারখানা

সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি:
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপি ও ইউনিয়ন বিএনপি নেতা আ. রউফ ও আ. জলিলের অবৈধ চুনা কারখানায় জ্বলছে লাখ লাখ টাকার অবৈধগ্যাস। এ ব্যাপারে বিভিন্ন গণমাধ্যমে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হলেও কোন পদক্ষেপ নেয়নি তিতাস গ্যাস কম্পানী ও স্থানীয় প্রশাসন।
বহাল তবিয়তে থাকা বিএনপি নেতাদের এই চুন কারখানাঢ প্রতিদিন প্রায় দেড় থেকে দুই লাখ টাকার সরকারি গ্যাস পুড়িয়ে আমদানি করছে ৪-৫ লাখ টাকা। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে এবং তিতাসগ্যাস সোনারগাঁ জোনাল অফিসের খুব সন্নিকটে হলেও রহস্যজনক কারনে নিরব ভুমিকা পালন করছে। শত অভিযোগের পরও বহাল তবিয়তে চালিয়ে যাচ্ছে চুনা কারখানা।
এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আব্দুর রউফ জানান, এ অবৈধ চুন কারখানা তার নয়। অনুসন্ধানে জানা যায়, রউফ ও জলিল দুইভাই মামুন নামের এক ম্যানেজারের মাধ্যমে কারখানা চালিয়ে যাচ্ছেন।
তবে অনুসন্ধানে জানা গেছে, আষাঢ়িয়ার চর এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে পরিত্যাক্ত সিএনজি পাম্পের ঢালে তাদের বাড়ির পাশে গড়ে ওঠা অবৈধ চুনের কারখানাটি তাদের নিয়ন্ত্রনে চলছে। পরিবেশের বিপর্যয় হলেও তাদের ভয়ে এলাকাবাসী মুখ খুলছে না।
জানা যায়, সিদ্ধিরগঞ্জে চুনের কারখানা সরকারিভাবে নিষিদ্ধ করায় সোনারগাঁয়ে প্রায় শতাধিক কারখানা গড়ে ওঠে। ডার অধিকাংশই মহাসড়কের পাশে। তিতাসের কিছু কর্মচারিকে ম্যানেজ করেই তারা কারখানা চালাচ্ছে। অনুসন্ধানে আরো জানা যায়, সিদ্ধিরগঞ্জের চুনের ব্যবসায়ীরা চুনাপাথর পাঠিয়ে দেয় সোনারগাঁয়ের ফ্যাক্টরিতে। তাদের দায়িত্ব হলো অবৈধগ্যাস সংযোগ নিয়ে পাথর পুড়িয়ে চুনা তৈরি করা। এতে প্রতি মাসে কারখানা মালিকে ৩০- ৬০ লাখ টাকা দিচ্ছে চুন ব্যবসায়ীরা। বিনা পুঁজিতে সরকারি গ্যাস পুড়িয়ে বিএনপি নেতা রউফ জলিল দুইভাই প্রতিমাসে ৩০-৬০ লাখ টাকা পাচ্ছেন। তাই কোন মিডিয়ার লোক যেন কারখানার আশপাশে যেতে না পারে সে জন্য সশস্ত্র ক্যাডার বাহিনী রেখেছেন। কেউ কারখানার কাছে গেলেই হামলার শিকার হচ্ছেন।
নারায়ণগঞ্জ পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মোবারক হোসেন বলেন, আমরা বার বার চুনের কারখানা ভেঙ্গে দিলেও স্থানীয় প্রশাসন ও তিতাসের তৎপরতা না থাকায় তারা পুনরায় ভাট্টি গড়ে তোলে। এতে ভয়াবহ পরিবেশ বিপর্যয়ের মুখে পড়ছে স্থানীয়রা।